Friday, February 13, 2015

পরামর্শ

মার্কেটিংয়ে ক্যারিয়ার
পায়ে পায়ে চ্যালেঞ্জ
পান্থ বিহোস
দৈনিক সমকাল  প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০১৫

অনেকেই আছেন চাকরিটাকে স্রেফ চাকরি মনে না করে আরও বড় কিছু ভাবেন। চাকরিজীবনের মাঝেও আনন্দ খোঁজেন, বৈচিত্র্য চান। মার্কেটিং হচ্ছে সে রকমই একটা পেশা, যে কাজে আপনি হবেন নিত্য চ্যালেঞ্জমুখী, কাজের মধ্যে পাবেন হাজারো বৈচিত্র্য, সমাজের নিম্ন-মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে এলিট শ্রেণী পর্যন্ত হবে আপনার যাতায়াত। ফলে কাজের মধ্যে আনন্দের ছড়াছড়ি। তবে এসবকে ছাড়িয়ে এই পেশায় চ্যালেঞ্জটাই বড়। সুতরাং আপনি যদি ক্যাপাবল হন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার, চ্যালেঞ্জ নেওয়াটাই যদি হয় আপনার কাছে আনন্দদায়ক, কাজের ভেতর চ্যালেঞ্জ দেখে যদি আপনার রক্তবিন্দু নেচে ওঠে; তবে নিশ্চিত করে বলা যায়, আপনি মার্কেটিং পেশার জন্যই পারফেক্ট!


নেপথ্য কথা : সময়ের চাহিদার সঙ্গে তাল রেখে যে কোনো একটা কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে মার্কেটিং বিভাগটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটা কোম্পানির প্রোডাক্ট শুধু গুণগত মান ভালো হলেই হয় না; এজন্য সেটা ভোক্তার দোরগোড়া পর্যন্ত পেঁৗছে দিতে না পারলে সেই প্রোডাক্ট থেকে কোম্পানি কোনো বেনিফিট পাবে না। এ জন্য যে কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য মার্কেটিং বিভাগটা খুবই পাওয়ারফুল এবং প্রয়োজনীয়।

যাদের জন্য: সবচেয়ে যোগ্যরাই এখন মার্কেটিং সেক্টরে কাজ করেন। সেই সঙ্গে যাদের আছে মানুষকে কনভিন্স করার দক্ষতা, মানুষের সঙ্গে খুব সহজে মেশার অভিজ্ঞতা, সুন্দর করে কথা বলার যোগ্যতা, মানুষকে মোটিভেট করার ক্ষমতা_ সর্বোপরি যারা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে উন্মুখ; তাদের জন্য মার্কেটিং পেশার চেয়ে ভালো কোনো পেশা হতে পারে না।
এক সময় একটা কোম্পানিতে মার্কেটিং সেক্টরে এক বা দু'জন লোক হলেই যথেষ্ট হতো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাল রেখে এবং এই সেক্টরের গুরুত্ব বুঝে এখানে যারা কাজ করেন তারা হচ্ছেন মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ, ব্র্যান্ড ম্যানেজার, প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার, অ্যাডভার্টাইজিং ম্যানেজার, মিডিয়া ডিরেক্টর, মিডিয়া বায়ার, মার্কেটিং অ্যানালিস্ট, মার্কেটিং রিসার্চ ম্যানেজার, মার্কেটিং ডেভেলপমেন্ট অফিসার ইত্যাদি।

যোগ্যতার মাপকাঠি : এটা নির্ভর করে কোম্পানির ওপর। অনেকেই আছেন এমবিএ ডিগ্রি না হলে মার্কেটিংয়ে নিয়োগই দেন না। আবার অনেকে বিবিএ নিয়েই সন্তুষ্ট। কেউ আবার শিক্ষাগত যোগ্যতার চেয়ে অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেন। অন্য কোম্পানিতে মার্কেটিংয়ে জব করেছেন এমন কাউকে খুব সহজেই নিয়োগ দেন। কারণ এ পেশাতে বাস্তব অভিজ্ঞতাই বেশি কাজে লাগে। সাধারণত যারা চটপটে, মিশুক, কথা বলেন সুন্দর করে এবং অবশ্যই পজিটিভলি; মূলত তারাই মার্কেটিংয়ে যোগ্য বলে বিবেচিত হন।

নিয়োগ ব্যবস্থা : আপনার যদি চাকরিটায় আবেদন করার প্রাথমিক যোগ্যতা থাকে, সেই সঙ্গে কোথাও কাজ করার অভিজ্ঞতা, তাহলে আবেদন করার পর লিখিত পরীক্ষার জন্য ডাকা হবে আপনাকে। লিখিত পরীক্ষা সন্তোষজনক হলে ডাক পাবেন মৌখিক পরীক্ষার জন্য। মৌখিক পরীক্ষাতে বোর্ডকে সন্তুষ্ট করতে পারলে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

চাকরিক্ষেত্র : এমন কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান নেই যাদের মার্কেটিং সেক্টর নেই। হাসপাতাল, বীমা, বিমান অফিস থেকে শুরু করে বড় বড় করপোরেট কিংবা সরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক_ সর্বত্রই মার্কেটিং সেকশন খুব দাপুটে। বরং মার্কেটিং বিভাগকে আরও শক্তিশালী করতে নিত্য এই সেক্টরে আরও নতুন পদ বের করার চিন্তাভাবনা হচ্ছে। এই সেক্টরকে ডেভেলপ করতে নিত্য গবেষণা হয় এবং হচ্ছে। সুতরাং চাকরির ক্ষেত্র নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে না। আপনি যে কোনো কোম্পানিতেই মার্কেটিং পেশায় জয়েন করতে পারেন, যদি নিজেকে সেভাবে দক্ষ ও যোগ্য করে তোলেন।

পেশার মূল্যায়ন : মার্কেটিং পেশা যেমন চ্যালেঞ্জের, তেমনি পরিশ্রমেরও। এ জন্যই এ পেশার মূল্যায়নও বেশি। অন্যান্য সেক্টর থেকে এখানে বেতন-বোনাস বেশি। এ ছাড়া কোম্পানির দেওয়া টার্গেট পূরণ করতে পারলে অতিরিক্ত কমিশন তো আছেই। এ জন্যই এই পেশাতে মানুষের আগ্রহ বেশি। কারণ পরিশ্রম বেশি হলেও কাজের মূল্যায়ন যথাযথ করা হয়। মার্কেটিংয়ের পদভেদে এই সেক্টরে বেতন হয় ১৫ হাজার থেকে শুরু করে এক লাখ বা তারও বেশি। সেই সঙ্গে মাস শেষে টিএ, ডিএ, কমিশন তো আছেই।

চাকরির প্রস্তুতি : আপনি যদি চিন্তা করে থাকেন মার্কেটিংয়েই নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করবেন, তাহলে প্রস্তুতির পালা হোক শুরু এখন থেকেই। আর এটাই হচ্ছে সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন মোটিভেটেড বই পড়তে পারেন। এতে সেল্ফ ডিফেন্স যেমন বাড়ে তেমনি অপরকে মোটিভেট করতেও কাজে লাগবে নিশ্চিত। মার্কেটিংয়ে জব করেন এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলুন। নিজে থেকে মার্কেটিংয়ের নানা পলিসি নিয়ে ভাবুন। 
পুরনো পলিসিগুলোকে আরও সুন্দর করে কীভাবে কাজে লাগানো যায় দেখুন। মার্কেটিং কাজে কী কী জানার আছে সেগুলো খুঁজে দেখে নিজের মধ্যে লালন করতে চেষ্টা করুন। চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার প্রত্যয়, দক্ষতা, সহিষ্ণুতা ধারণ করতে না পারলে মার্কেটিং পেশায় নিজেকে ডেভেলপ করা আসলেই কঠিন।

চাকরির সময় : মার্কেটিং পেশায় নিয়োজিত আছেন, কাজ করে যাচ্ছেন অবিরত, কিন্তু শ্রমের তুলনায় আউটপুট হচ্ছে না? ওকে, ফাইন। নিজেকে নিয়ে পাঁচ দিন অ্যানালিসিস করুন। কেন ভালো করতে পারছেন না ভেবে দেখুন। নিজে থেকে কোনো অভিনব কৌশল ব্যবহার করেছেন? যে প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের আপনি মার্কেটিং করেন সেটার গুণগত মান কেমন? ওই প্রোডাক্ট বা সার্ভিস সম্পর্কে ভালোভাবে আপনি জানেন তো? এই দিকগুলো ভাবনা করলে আপনার সফলতা বৃদ্ধি পাবে নিশ্চিত।


শেষ ক্লিক : নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ, আইডিয়া ধারণ করার ক্ষমতা, প্রয়োগে সিদ্ধহস্ত আপনি? তাহলে মার্কেটিংয়ে আপনাকে স্বাগতম। আর যদি মনে হয় এসব নিয়ে আপনি মাথা ঘামান না, এই পেশায় আসতে চান কারণ, এই সেক্টরে বেতন-ভাতা বেশি। তাহলে গুরুজনদের কথা হচ্ছে_ মার্কেটিং পেশা থেকে আপনি হাজার মাইল দূরে থাকুন। বেস্ট অব লাক চ্যালেঞ্জার্স!

দৈনিক সমকাল 

0 comments:

Post a Comment