Friday, February 13, 2015

পরামর্শ

অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস
মুহূর্তেই ভয়ঙ্কর ভীষণ
মুনতাসির রশিদ খান

দৈনিক সমকাল  প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

'ওভার কনফিডেন্স' অথবা অত্যধিক আত্মবিশ্বাস সম্পর্কে সবারই জানা। এটি মাঝে মধ্যে নেতিবাচক ফলাফল নিয়ে আসে। ধরুন, আপনি কোনো একটি পরীক্ষা খুব সহজ মনে করে পরীক্ষার ঠিক আগের দিনের জন্য সব পড়া জমিয়ে রাখলেন এবং এ গ্রেডের পরিবর্তে বি গ্রেড পেলেন। অথবা ধরা খাবেন না ভেবে আপনি কোনো একটি স্টকে প্রচুর টাকা ইনভেস্ট করলেন এবং পরবর্তীতে বেশ বড় অঙ্কের টাকা হারিয়ে বসলেন। এসবই কিন্তু অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস নামক ভুলের মাশুল। শুধু এতেই শেষ নয়; এমন অসংখ্য ভুলের এবং বিতিকিচ্ছিরি ঘটনার মুখোমুখি হওয়াটাই স্বাভাবিক।


শুধু একবার নয়, বারবার আপনাকে এই অত্যধিক আত্মবিশ্বাসের দরুন ভয়াবহ পরিণতির সামনে দাঁড়াতেই হবে। 

আত্মবিশ্বাসের ভয়াল থাবা
আত্মবিশ্বাস একান্ত প্রয়োজনীয় কিছু গুণাবলির একটি, যা আমাদের সব আত্মবিশ্বাস এবং সন্দেহকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। একটু বেশি মাত্রায় আত্মবিশ্বাস আমাদের লক্ষ্য থেকে সরিয়ে দিতে পারে। কেন এমন হয় তা জানার আগে জানতে হবে কেন আমরা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হই

ফলাফল জিরো
সাধারণত যদি কোনো কাজে সাফল্য অর্জনের জন্য আমাদের সামর্থ্যকে উজাড় করে দিতে হয়, অথবা কাজটা যদি অনেক পরিশ্রমের হয় সে ক্ষেত্রে আমরা বেশি আত্মবিশ্বাসী হতে পারি না এবং কাজটা সময়মতো নিষ্ঠার সঙ্গে শেষ করি। অন্যদিকে, কাজটা যখন অনেক সোজা হয়, আমরা ওভার কনফিডেন্ট হয়ে পড়ি এবং খামখেয়ালিপনায় কাজ করি। ভাবি, কাজটা অনেক সোজা, পরে করব। এত তাড়াহুড়ার কী? পরবর্তীতে ফলাফল হয় শূন্য বা দুঃখজনক। 

শেষ হয়ে ওঠে না
আমাদের বুঝতে হবে যে, কোনো কাজ তখনই সোজা হয়, যখন আমরা সামর্থ্য এবং রিসোর্সগুলো কাজে লাগাই। ধরুন আপনাকে একটি রাস্তা পেরুতে বলা হলো। এটি অত্যন্ত সহজ কাজ। কিন্তু যদি বলা হয় রাস্তাটি ৫ সেকেন্ডে এক পায়ে পার হতে হবে, তখন কাজটি আর সোজা থাকে না। আমাদের ক্ষেত্রে এই ব্যাপারটাই ঘটে থাকে। আমরা কোনো সহজ কাজকে ফেলে রাখি। এতে কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সময় কমতে থাকে এবং কাজটি কঠিন হতে থাকে। তাছাড়া তাড়াহুড়ার ফলে কাজে ভুলের পরিমাণ বাড়তে পারে। অথবা আমার এখন যে সোর্সগুলো আছে তা পরে নাও থাকতে পারে। ফলে কাজটি ভালোভাবে শেষ করা হয়ে ওঠে না। 

অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস
অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের দরুন নানামুখী সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে আমাদের প্রতিনিয়ত। চলুন যেসব উদাহরণের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আমরা নিজেকে যাচাই করতে পারি তা জেনে নিই

ক্লাসের কাজে 
আপনি খুবই সহজ একটা প্রজেক্ট হাতে নিলেন। ভাবলেন এটা তো খুবই সোজা। এবং মনে মনে এই বললেন যে, আমি ভালোই জানি এমন কাজ কী করে সহজে করা যায়।
ব্যস, এই ভেবে কাজটা ফেলে রাখলেন। কয়েক সপ্তাহ পরে যখন পুরনো কাজগুলোর চাপ আসবে আপনার ওপর, তখন আপনার সহজ কাজগুলো করার সময় কমে যাবে। যেই টপিকগুলোতে বেশি সময় দেওয়া দরকার ছিল, সেগুলোতে আপনি তা দিতে পারছেন না। এতে আপনার রেজাল্টের জিপিএ কমবে। 

বিনিয়োগে
এই শেয়ারটা কখনও ফল করবে না। এটি কিনলে টাকা দণ্ডি যাবে না। কারণ এই শেয়ারটা ওয়ারেন বাফেট কিনেছেন। তাই আমি কিনলে কোনোভাবেই এতে লস খেতে পারি না।
অথবা আপনি দুই সপ্তাহ রিসার্চ করছেন এবং টেকনিক্যাল এনালাইসিস করার যাবতীয় উপায় শিখে গেছেন। তাই নিজে নিজে ঠিক করেন যে, কোন শেয়ারটার দাম বাড়বে বা কোনটির দাম কমবে। এই কাজটা যারা শেয়ারবাজারে ইনভেস্ট করেন, সবাই করে থাকেন। আপনার ভেতর এই যে অত্যধিক আত্মবিশ্বাস জন্ম নিল, এর ফলে কিন্তু আপনি ঠিকই বড় সমস্যায় পড়বেন। এটি ছোট্ট একটি ভুল হলেও হারাতে হতে পারে বিশাল অঙ্কের টাকা।

মুক্তির উপায়
যে কাজটি আপনাকে দেওয়া হলো বা যে কাজ নিজ থেকেই আপনি নিজের ঘাড়ে নিলেন সেই কাজটি কিন্তু আপনি সহজ ভেবেই নিয়েছেন। তো এই কাজটা যখন সহজ, তখন ধরেই নেওয়া হয় যে আপনি কাজটি করতেও পারবেন। আবার অর্পিত কাজটি যখন অনেক কঠিন হবে, তখন আপনি ভাবেন যে, কাজটি না পারলেও সমস্যা নেই। 
এই দুটি কাজের মধ্যে বা তুলনামূলক যে কাজটি কঠিন, সে কঠিন কাজের সমস্যা সমাধান না করতে পারলে কেউ আপনাকে নিয়ে মজা করবে না। কিন্তু সহজ একটি কাজ যেটি ছোট বাচ্চাও করতে পারে, আপনি সেটা ঠিকঠাক আদায় করতে পারলেন না। এই ক্ষেত্রে আর কেউ না হোক, সবার আগে বন্ধুরাই আপনাকে নিয়ে মজা করবে! তাদের কাছেই সবার আগে নাকানি-চুবানি খাবেন আপনি। শুধু তাই নয়; এতে বড় ধরনের খেসারতও দিতে হবে আপনাকে।

সহজ কাজে বেশি পরিশ্রম
সাধারণত যে কোনো সহজ কাজে বেশি পরিশ্রম করাটা জরুরি। যদি আপনাকে কোনো কাজের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়, এটা ধরে নেওয়া হয় যে, আপনি এই কাজটার প্রসেস সম্পর্কে সবকিছু জানেন। এ ক্ষেত্রে আপনি যদি কাজগুলো ওভার কনফিডেন্সের কারণে ঠিকভাবে না করতে পারেন, তবে আপনার ওপর বসের একটি নেতিবাচক ইমপ্রেশন তৈরি হবে যা কোনোভাবে কাম্য নয়।
তাই যে কোনো কঠিন কাজের চেয়ে সহজ কাজগুলোতে বেশি পরিশ্রম করাটা জরুরি।

যথাসময়ে কাজ
সময়ের কাজ সময়ে আদায় না করা নিয়ে অনেক নীতি কথাই জানি আমরা। পতন দেখেছি খরগোশেরও। আপনি সহজ কাজের দায়িত্ব পেয়ে বা আপনার হাতে একটি সহজ কাজ এলে তা ঠিক সময়ে আদায় না করে ফেলে রাখলে খরগোশে ঠিকই পেয়ে বসবে আপনাকে। আর ওদিকে আপনার চেয়েও ধীরগতিতে এগোনো কচ্ছপরা খেয়ে নেবে আপনার গতি। আপনার দক্ষতা এবং সব সাফল্য। সময় অনুযায়ী কাজ করুন। সহজ কাজের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন যেন আপনি ওভার কনফিডেন্সের শিকার না হোন। 
'ওভার কনফিডেন্স' অথবা অত্যধিক আত্মবিশ্বাস সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকলে এবং এর ভেতর থেকে যদি আপনি আপনার গুরুত্ব অনুযায়ী সাফল্য বের করে না আনতে পারেন তবে এ ক্ষেত্রে ব্যর্থতাটা আপনাকেই নিতে হবে!

0 comments:

Post a Comment