Saturday, February 14, 2015

বসন্তবরণ

নেচে গেয়ে বসন্তবরণ
দৈনিক ইত্তেফাক   ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫ ইং ০১:০৩ মিঃ

বাসন্তী রঙে আজ এসেছে ফাগুন। প্রাণে লেগেছে প্রাণের পরশ। গাছে গাছে পাতার আড়ালে কোকিলের ব্যাকুল করা কুহুতান জানান দিচ্ছে সেই আগমনী বার্তা। তাই শীতের আড়ষ্টতা ভেঙ্গে গতকাল শুক্রবার নগরবাসী মেতে উঠে বসন্ত উত্সবে।  নেচে-গেয়ে বরণ করে নেয় ঋতুরাজ বসন্তকে।

পুব আকাশে ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী নারী-পুরুষ ভিড় জমান রাজধানীর চারুকলার বকুল তলায় বসন্ত উত্সবে। রঙিন শাড়ি, চুড়ি, জামা আর বাহারী ফুলে সেজেছিলেন তরুণীরা। চারুকলা ছাড়াও বাংলা একাডেমির একুশে বইমেলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, শাহবাগ, পাবলিক লাইব্রেরি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও ধানমন্ডি লেক এলাকা সারাদিন মাতিয়ে রাখেন উচ্ছ্বল তরুণ-তরুণীরা। পাশাপাশি চলে ফেসবুক, টুইটারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বসন্তের শুভেচ্ছা বিনিময়।
দেশে বাংলা ১৪০১ সাল থেকে জাতীয়ভাবে বসন্ত উত্সবউদ্যাপন করার রীতি চালু হয়। গতকাল ফাগুনের প্রথম প্রভাতে জাতীয় বসন্ত উত্সব উদ্?যাপন পরিষদের উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় উদযাপিত হয় বসন্ত বরণ উত্সব। বর্ণিল সাজে নানা বয়সী মানুষ অংশ নেন এই উত্সবে। বেহালার সুর, গান, কবিতা, নৃত্য ও কথনে সাজানো হয়েছিল গোটা অনুষ্ঠান। অংশ নেন এপার ও ওপার বাংলার শিল্পীরা। 
প্রতিবছরের মতো এবারও সকাল সোয়া ৭টায় শিল্পী মতিয়ারের সারেঙ্গীর সুরের মূর্ছনায় শুরু হয় উত্সব।  লাল হলুদ আর কমলা রঙের ছটা দিয়ে সাজানো হয় মঞ্চ। বসন্ত ঋতুকে বন্ধনা করে শিল্পীরা সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন। দলীয় সংগীত পরিবেশন করে সুরের ধারা, সুর সপ্তক, স্বপ্ন বিকাশ কেন্দ্র, ধ্রুবতান ও সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী।
বসন্ত কথনে সাংবাদিক কামাল লোহানী চলমান রাজনৈতিক সহিংসতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘সেই মোঘল আমল থেকে অন্যায়ের প্রতিবাদে ঘুরে দাঁড়ানোর একটা সংস্কৃতি রয়েছে বাঙালির। কেননা বাঙালি জাতিগতভাবেই বিদ্রোহী। দেশে যে ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলছে তা রুখে দিতেই যেন আজ বসন্ত উত্সবে এত মানুষের সমাগম হয়েছে। এই উত্সবগুলো আমাদের প্রতিবাদের একটা অনুপ্রেরণা। আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের উত্সবগুলোর কথা ভুলিনি, আজকের উত্সব সেটারই প্রমাণ দেয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বসন্ত উত্সব উদযাপন পরিষদের সহ-সাধারণ সম্পাদক স্থপতি সফিউদ্দিন আহমেদ, সহ-সভাপতি কাজল দেবনাথ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট, বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের লুভা নাহিদ চৌধুরী, ড. নিগার চৌধুরী, পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা শিল্পী রাজশ্রী ভট্টাচার্য, অভিজিত্ চট্টোপাধ্যায়, তিন্নি দত্ত প্রমুখ। একই স্থানে বিকেল সাড়ে ৩টায় অনুষ্ঠিত হয় উত্সবের দ্বিতীয় পর্ব, চলে রাত ৯টা পর্যন্ত।

এছাড়া বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত রাজধানীর রবীন্দ্র সরোবর ও বাহাদুর শাহ পার্কে অনুষ্ঠিত হয় বসন্ত উত্সব। এই উত্সব ঘিরে ঢাকাবাসীআয়োজন করে মেহেদী শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের।

0 comments:

Post a Comment